
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চরাঞ্চলে সাপের কামড়ে একইদিনে মারা গেছে দুজন।
স্হানীয় সূত্রে জানা যায়,গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের পানাগাড়ী বাঘগাড়ি পাড়ার নুর হোসেনের পুত্র হযরত আলী তার বাড়ির পাশের বন্যার পানিতে চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। জাল পাতার কিছুক্ষণ পর তিনি সেটি তুলতে গিয়ে জালের মধ্যে একটি সাপ দেখতে পান। পরে জাল ছাড়ানোর সময় অসাবধানতাবশত সাপটি তাকে কামড় দেয়।
হযরত আলীর প্রতিবেশী আব্দুস সালাম নামের একজন জানান, ঢোড়া সাপ মনে করে কামড় দেওয়ার পরেও তেমন গুরুত্ব দেননি হযরত আলী।
কিছুক্ষণ পরে ব্যথা শুরু হলে তিনি স্থানীয় একজন ওঝার নিকটে যান। অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে স্বজনরা তাকে যমুনা পাড়ি দিয়ে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে এন্টিভেনম দেওয়া হয়।
এ সময় রোগীর স্বজনেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেন। বেলা আড়াইটার দিকে সেখানকার চিকিৎসক হযরত আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে একই উপজেলার খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের রাজবাড়ি গ্রামের মৃত আবু সাইদের স্ত্রী মমতা খাতুনও সাপের কামড়ে মারা যান একইদিনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে নিজ বাড়ির গোয়ালঘরে গরু তোলার উদ্দেশ্যে বৈদ্যুতিক সুইচ জ্বালাতে যান মমতা। এ সময় গোয়ালঘরে লুকিয়ে থাকা একটি সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকলে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তাকে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে জীবন বাঁচানোর সেই চেষ্টা সফল হয়নি। রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১২টার মধ্যে বগুড়ায় নেওয়ার পথে ধুনট এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাসেল বলেন, “রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ধুনট এলাকায় তার মৃত্যু হয়।”
এদিকে সাপের কামড়ে একইদিনে দুজনের মৃত্যুর ঘটনার এলাকায় শোক এবং আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাশাপাশি সাপের কামড়ে ব্যবহৃত এন্টিভেটম স্হানীয় ক্লিনিক এবং হাসপাতালগুলো সরবারাহের দাবী জানিয়েছে এলাকাবাসী
Leave a Reply