
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার সিমান্তবাজারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে ভ্যানগাড়ি ধাক্কা দিয়ে মসজিদে দেয়াল ভেঙে ভিতরে ঢুকে যায় বাস। এ সময় ভ্যানগাড়ি চালক ফরিদ ও বাসের চালক মারাত্মক আহত হন। এ ছাড়াও মসজিদটির দেয়াল, জানালা, মেঝে এবং ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরের আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে মান্নান নামের একজন হেল্পার ড্রাইভার হিসেবে গাড়িটি কাজিপুর থেকে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্য যাত্রীসহ যাত্রা করেছিলো।
স্থানীয়রা ও প্রত্যক্ষদর্শী গজারিয়া গ্ৰামের ভ্যান চালক হোসেন আলী জানান, তিনি এবং অপর ভ্যানগাড়ি চালক ভেওয়ামারা গ্ৰামের ফরিদ দুজন স্যানিটারি মালামাল পাইপ নিয়ে উত্তর দিকে পার্শ্ববর্তী বগুড়া জেলার গোসাইবাড়ি বাজারে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে সিমান্তবাজার উত্তর জামে মসজিদের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা সিরাজগঞ্জ – কাজিপুর রুটের প্রিয় এন্টারপ্রাইজ ( ঢাকা মেট্রো ব-১১৩০৭৬) বাসটি দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে গিয়ে সামনে থাকা ফরিদের মালবাহী ভ্যানগাড়ীতে ধাক্কা দিয়ে রাস্তার পাশে মসজিদের দেয়ালে ভেঙে ভিতরে ঢুকে যায়। এতে ফরিদের ডান কাধ ও হাত, মাথায় মারাত্মক আঘাত পায়। এবং গাড়ী চালক পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহতকে উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। মসজিদ কমিটির একাধিক ব্যক্তি নিশ্চিত করেছেন, এ দুর্ঘটনায় মসজিদের জানালা, দেয়াল, মেঝে এবং ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়াও ভ্যানগাড়িতে থাকা মালামাল ব্যপকভাবে ক্ষয়ক্ষতি হয়। কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন চালক মান্নান জানান, তার বাড়ি সিরাজগঞ্জের সদরের মিরপুরে, পিতা- মৃত সোলায়মান হোসেন। তিনি মূলত একজন হেল্পার। প্রিয় এন্টারপ্রাইজ বাসটি ড্রাইভার হিসেবে চালিয়ে সোনামুখী থেকে যাত্রী নিয়ে সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এবং সিমান্তবাজারে দুর্ঘটনায় পতিত হন। তার মাথায় ৬/৭ টি সেলাই ও আঘাত রয়েছে।
দুর্ঘটনা কবলিত বাসটির মালিক কর্তৃপক্ষ আরজু জানান, এই গাড়িটি প্রকৃত ড্রাইভার চালাচ্ছিলো, হেল্পাররা গাড়ি চালিয়ে চালিয়ে ড্রাইভার হয়, সড়কে গাড়ি চললে দুর্ঘটনা হবেই। দুর্ঘটনায় পতিত বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুর্ঘটনা স্থল পরিদর্শন শেষে কাজিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ইনভেস্টিগেশন) আবু সাইদ বলেন, আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর-শেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজিপুর অংশে সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাণহানির সংখ্যা আশংকাজনক হারে বাড়ছে। রোধে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পদক্ষেপেও লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, প্রশিক্ষিত ড্রাইভার, ও সচেতন যাত্রী এবং সুশৃংখল সড়ক গড়ে না উঠা পর্যন্ত দুর্ঘটনার সংখ্যা হ্রাস পাবে না।
Leave a Reply